২০১১সালের সিনেমাতেই করোনা ভাইরাসের ইঙ্গিত ছিল

২০১১সালের সিনেমাতেই করোনা ভাইরাসের ইঙ্গিত ছিল

Contagion Film

চলচ্চিত্রের দৃশ্য 

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। যেটির কারণে কয়েক হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছে আর কয়েক হাজার মানুষ মারাও গিয়েছে। চীন থেকে আসা এই ভাইরাসটি পুরোনো এক চলচ্চিত্রকে সবার নজরে নিয়ে এসেছে। আসবেই না কেন? পুরনো চলচ্চিত্রটিত্রে যে করোনার ভাইরাসের আভাস দেয়া হয়েছিল। 

কাকতালীয় হলেও এমন ঘটনা সত্যিই ঘটেছে। ২০১১সালে মুক্তি পাওয়া কন্টাজিওন (Contagion) চলচ্চিত্রে করোনা ভাইরাসের মতোই একটি অজানা ভাইরাসের আক্রমণকে তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবের মতো চলচ্চিত্রটিতেও দেখা যায় অনেক লোক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয় আর এটির জন্য মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাছাড়া, চলচ্চিত্রে দেখা যায় চিকিৎসকরা এটির ভ্যাক্সিন বা ওষুধ আবিষ্কার করতে হিমশিম খায় যেমনটি বাস্তবেও আমরা দেখি করোনা ভাইরাসের জন্য চিকিৎসকরা এখনো কোন ওষুধ আবিষ্কার করতে পারেনি।

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, চলচ্চিত্রে দেখানো হয় চীনে ভাইরাসটি উৎপন্ন হয়, আর করোনাও চীনেই উৎপন্ন হয়। আরও অদ্ভুত হলো, চলচ্চিত্রে দেখানো হয় ভাইরাসটি একজন শেফের মাধ্যমে ছড়ায় যিনি শূকরের মাংস কাঁটছিলেন। আর পরে চলচ্চিত্রে এটিও দেখানো হয় যে, বাঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল। বর্তমানে আমরা জানি করোনা ভাইরাস বাদুর থেকে ছড়িয়েছে ও মানুষের মাঝে শূকরের মতো প্রাণী খাওয়ার কারণে প্রবেশ করেছে।   

চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন টাইটানিক খ্যাত "কেইট উইন্সলেট" ও "গ্বিনিথ প্যাল্ট্রো"। বড় বড় অভিনেতা ও অভিনেত্রী থাকলেও ২০১১সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ফ্লপ হয়ে যায়। তবে ৯বছর পর ২০২০সালে করোনার প্রভাব পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে চলচ্চিত্রের এরকম কাহিনী আবার সকলের নজরে এসেছে ও চলচ্চিত্রটি খুবই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই চলচ্চিত্রের খবর ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ও মানুষ হাজার-হাজার ডাউনলোড করছে।     

চলচ্চিত্রটিকে সত্যনির্ভর করেই তৈরি করা হয়েছে তবে সেই কাহিনী যে একদিন সত্য হয়ে দাড়াঁবে তা হয়তো সয়ং লেখকেরও জানা ছিলো না।

তবে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু বাস্তবে রূপ নেওয়ার বিষয় কিন্তু নতুন নয়। হলিউডের চলচ্চিত্রগুলো এতোটাই সত্যনির্ভর হয় যে, অনেক চলচ্চিত্রের বিষয় ভবিষ্যতে গিয়ে আসল রূপ নিয়েছে।       

Post a comment

0 Comments